খোকসায় গড়াই নদে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: হুমকির মুখে ভবানীপুর ও গণেশপুর গ্রাম।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গড়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে মেতেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের আজইল ক্যালান বাজারের ইমন জোয়াদ্দার সরাসরি এই অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই চক্রের দাপটে নদের বুক চিরে ড্রেজার বসিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে পরিবেশ, আর পাইপলাইন বসিয়ে নষ্ট করা হচ্ছে ভবানীপুর চর ও গণেশপুর গ্রামের শত শত বিঘা ফসলি জমি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে এই বালু দস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের পেছনে বড় কোন অবৈধ শক্তির হাত রয়েছে, যার ফলে প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বালু অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি কোনো ইজারা বা অনুমতি ছাড়াই এই বালু তোলায় সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গড়াই নদীর মাঝখান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে তা বিশাল আকৃতির পাইপের মাধ্যমে ভবানীপুর চর ও গণেশপুর গ্রামের আবাদি জমির ওপর দিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষকের আর্তনাদ: ধান, পাট ও রবি শস্যের খেতের বুক চিরে পাইপ বসানোর ফলে শত শত বিঘা জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধা দিলে কৃষকদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
নদী ভাঙন: অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় নদের তলদেশ গভীর হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে পাড় ভেঙে গ্রাম দুটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের থাবা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, "ইমন ও তার সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছে।" এলাকায় বালু পরিবহনের ধুলোয় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ইজারা বিহীন এই বালু উত্তোলন কীভাবে দিনের পর দিন চলছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে এই 'বালু সিন্ডিকেট' ভেঙে দিয়ে ইমন জোয়াদ্দারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
গড়াই নদ এবং কৃষকের আবাদি জমি রক্ষায় দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, প্রভাবশালী এই চক্রের কারণে ভবানীপুর চর ও গণেশপুর গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।