রাজধানী হাজারীবাগের চরকঘাটা এলাকায় স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) হত্যার নেপথ্যে রয়েছে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান। ঘাতক সিয়ামের উত্ত্যক্ত থেকে বাঁচতে স্কুল ও বাসা পরিবর্তন করেও শেষ রক্ষা হলো না এই কিশোরীর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে নিহত বিন্তির চাচা শাকিল বলেন, ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাইয়ের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
বিষয়টি জানার পর পরিবার মেয়েটির স্কুল ও বাসা পরিবর্তন করে দেয়। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে সে আবারও উত্ত্যক্ত শুরু করে। গতকাল রাতে বিন্তি তার ডাকে সাড়া না দেওয়ায় পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে বলে তিনি জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, ছুরিকাঘাত করার পর ঘাতক সিয়াম অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। সে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই ছুরি মুছে পরিষ্কার করে এবং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে যায়। বিন্তিকে পেছন থেকে আঘাত করায় শুরুতে বিষয়টি কেউ আঁচ করতে পারেনি। আহত অবস্থায় বিন্তি দৌড়ে বাসায় যাওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বিন্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত বিন্তি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাছিকাটা গ্রামের বিল্লাল হোসেনের মেয়ে।
এদিকে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ঘাতক সিয়ামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার বিস্তারিত জানাতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।